আজকালকার দিনে ভার্সন কন্ট্রোল টুল বা ভিসিএস ব্যবহার করে না এরকম ডেভলপার বা প্রোগরামারের দেখা পাওয়া একটু মুশকিল। তারপর ও দেখা যায় ভার্সন কন্ট্রোল টা কি জিনিস এটা বুঝে না বিশেষ করে যারা নতুন ডেভলপার বা প্রোগরামার আছে যখন তারা এটা প্রথম অবস্থায় নাম শুনে তখন তারা মনে হয় আকাশ থেকে পরছে এমন কি আমি ও যখন এটার নাম প্রথম শুনি আমারও আকাশ থেকে পরার মত অবস্থা হয়েছিল “ নতুন ডেভলপার দের বা কি বলব আমার দেখা অনেক ভালো প্রোগরামার বা ডেভলপার আছে তারাও ঠিক মত ভার্সন কন্ট্রোল করতে পারে না প্রোজেষ্কটে “| ভার্সন কন্ট্রোল টুল এত উপকারী যে দেখা যায় বেশীর ভাগ ডেভেলপার একা কাজ করলেও বা সিংগেল ম্যান প্রজেক্ট হলেও সোর্স কোড সফলভাবে ম্যানেজ করার জন্য কোন না কোন টুল ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে ভার্সন কন্ট্রোল টুল গুলোর মাঝে গিট (git), সাবভার্সন (svn), মারকুরিয়াল, বাজার ইত্যাদি বেশি প্রচলিত। প্রাথমিকভাবে যদিও গিট লিনাক্সের জন্য ডেভেলপ করা হয়েছে, তারপরও এটা সবচেয়ে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম, যেমন বিএসডি, সোলারিস, ওএস এক্স, এবং মাইক্রোসফটের উইন্ডোজও সাপোর্ট করে। যাই হোক, আজকের এই আর্টিকেলে আমি ভার্সন কন্ট্রোল টুল কি কেন ব্যবহার করা লাগে বা সুবিধা কি সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো |

Git-গিট কী
গিট হচ্ছে ভার্সন কন্ট্রোল সিস্টেম। ডেভেলপাররা সাধারণত প্রজেক্টের ভার্সন কন্ট্রোল এবং একই প্রজেক্টে একের অধিক ডেভেলপার কাজ করার জন্য গিট ব্যবহার করে। গিট দিয়ে বড়ো সড়ো প্রজেক্ট গুলো কন্ট্রোল করা হয়।

গিট কেন ব্যবহার করা হয়
যেহেতু গিট একটি ভার্সন কন্ট্রোল সফটওয়্যার সেহেতু কোন সফটওয়ারের ভার্সন গিট এর মাধ্যমে সহজেই কন্ট্রোল করা যায়। গিট এর মাধ্যমে বিভিন্ন ডেভেলপার একই সফটওয়ারের ডেভেলপমেন্টে অংশ নিতে পারেন, পরিবর্তন করতে পারেন, এবং একজন নির্দিষ্ট ডেভেলপার সেই পরিবর্তন চূড়ান্ত করতে পারেন। যেহেতু গিট একটি ডিস্ট্রিবিউটেড ভার্সন কন্ট্রোল সিস্টেম, এটি সার্ভার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

গিটহাব কী
সহজ ভাষায় বলতে গেলে গিটহাব হচ্ছে কোড হোস্ট করার একটা সাইট। আর হোস্টিং কি জিনিস এটা আসা করি সবাই জানেন তারপরও যদি কারো না জানা থাকে তাহলে দয়া করে একটু গুগল করে জেনে নিবেন। তারপর ও আমি একটু সহজ করে উদাহরণ দেই ধরেন আমরা যখন কম্পিউটার কোন ডকুমেন্টস রাখি তখন আমাদের কি করতে হয় একটা ফ্লোডার তৈরি করতে হয় আর এই ফ্লোডার টাই হচ্ছে হোস্টিং মোটকথা আমরা আমাদের কাজ গুলো যেখানে আর কি সেভ করে রাখব সেটাই হোস্টিং ,আমার এই কথা শুনে অনেকে আবার মনে করতে পারে ভাই তাহলে কম্পিউটার এ সেভ করে রাখলেই তো হয় গিটহাব এর আবার কেন প্রয়োজন 😆😆| আসলে সাধারণত ওপেন সোর্স প্রজেক্ট গুলো গিটহাবে হোস্ট করে অন্যান্য ডেভেলপারদের সাথে শেয়ার করে। এতে পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে যে কেউ যে কোন প্রজেক্টে কাজ করতে পারে। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে লেখার সময় Ctrl Z ব্যবহার করেছি না? গিট ব্যবহার করলে প্রোজেক্ট তৈরির সময় এই সুবিধেটি পাওয়া যায়। যেমন আমরা একটা প্রজেক্টে অনেক গুলো ফিচার যুক্ত করেছি। তো কম্পিউটার তো মনে রাখবে না কোন কোন ফিচার যুক্ত করেছি, কোন দিন কোন ফিচার যুক্ত করেছি। কোড লিখতে লিখতে আমাদের মনে হলো তিন দিন আগে যে ফিচারটি যুক্ত করেছি, সেটিই ভালো ছিল। এরপরের ফিচার গুলোতে সমস্যা। প্রজেক্টের তিন দিন আগের কোড গুলো ফিরে ফেতে হবে, তখন কি হবে? আবার আপনি যে ফাইলে কাজ করে, সে ফাইলে অন্য ডেভেলপারেরও কাজ করতে হবে। কিন্তু কিভাবে করবেন? কে কোন কোড গুলো লিখেছে, কোন কোডের পর কোন কোড হবে, এগুলো কিভাবে ম্যানেজ করা যাবে? এরকম সমস্যা গুলো সমাধান করার জন্যই গিট। আরেক টা কথা বলে রাখি গিটহাব ফ্রি এবং পেইড দুইরকমই হোস্টিং করে। ব্যক্তিগত রিপজিটরির জন্য সাধারণত পেইড করতে হয়। গিটহাব মূলত ওপেনসোর্স সফটওয়্যার প্রোজেক্ট হোস্টিং করে।

গিটহাব ব্যবহারের সুবিধা
১. আপনার ওপেনসোর্স প্রেজেক্টে অবদান রাখার জন্য।
২. যেকোনো প্রেজেক্টের জন্য ফিল্ড-টেস্ট টুলস।
৩. গিটহাবে পাবেন ইনটিগ্রেটেড ইস্যু ট্র্যাকিং সুবিধা।
৪. একত্রে কাজ করার সুবিধা।
৫. একই প্রতিষ্ঠানের বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডিস্ট্রিবিউটেড টিম পরিচালনা করা।
৬. সিনট্যাক্স হাইলাইটেড কোড।
এছাড়াও আরো অনেক সুবিধা আছে….

Author

Write A Comment