তুমি একটা গাড়ি চালাচ্ছ– হুট করে রাস্তার মাঝখানে সেই গাড়ির ফুটা হয়ে গেছে !!! এখন তুমি কি করবে? কি চুপচাপ বসে বসে চিন্তা করবে? আরামসে শুয়ে শুয়ে টেনশন করবে? নাকি দেখবে গাড়ির পিছনে কোন বাড়তি চাকা আছে কিনা? চাকা পাল্টানোর কোন টুলস পাওয়া যায় কিনা? দরকার হলে দুইজনকে ফোন দিয়ে, অনলাইনে দুইটা টিউটোরিয়াল দেখে, কারো কাছ থেকে হেল্প নিয়ে কোন রকমে হলেও চাকা ঠিক করার চেষ্টা করবে। .সেই একইভাবে মনে করো তুমি নৌকায় করে কোথাও যাচ্ছে। হুট্ করে নৌকার তলায় ছোট একটা ফুটা দিয়ে একটু একটু করে পানি আসতে শুরু করছে!!!

তুমি কি এখন চুপচাপ বসে থাকবে? আশেপাশের প্রকৃতির সাথে সেলফি তোলা শুরু করবে? নৌকার সামনের অংশে টাইটানিকের মতো করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চিন্তা করতে করতে সময় নষ্ট করবে? নাকি সবচেয়ে বেশি বিপদজনক এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে সবার আগে নৌকার ফুটা বন্ধ করার জন্য সেখানে কিছু একটা দিবে। আর কিছু না পেলে নিজের আঙ্গুল দিয়ে নৌকার মধ্যে পানি আসা বন্ধ করবে? .এখন একটু চিন্তা করে দেখো– রাস্তায় চাকা পাংচার হওয়া গাড়ির ড্রাইভারের মতো। নৌকার তলায় ফুটা হয়ে যাওয়া মাঝির মতো– তুমিও তোমার লাইফের মাঝি। তুমিও তোমার লাইফের ড্রাইভার। এই গাড়ি চালাতে গেলে তোমার লাইফেও মাঝে মধ্যে দুই একটা ঝামেলা চলে আসবে। হয়তো একসাথে বেশ কয়েকটা গ্যাঞ্জাম হানা দিবে। তবে এসব ক্ষেত্রে কার কি অপরাধ, কার কি ভুল, কে ধোঁকা দিছে, সেগুলা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সময় নষ্ট করা যাবে না। বরং খুব দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। দরকার হলে প্রবলেম স্বীকার করে অন্যদের কাছে হেল্প চাইতে হবে। লুকানো কিংবা ভুজুংভাজুং বলে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা না করে সিচুয়েশনকে ফেইস করতে হবে। .যেকোনো সমস্যা, ঝামেলা, প্যারা বা গ্যাঞ্জাম উদয় হওয়ার সাথে সাথে সেটাকে যদি ফেইস করো। সেই সিচুয়েশনকে হ্যান্ডেল করা শুরু করে দাও। তাহলে সমস্যা বিচির মধ্যে থাকতে থাকতেই সহজেই সল্ভ হয়ে যাবে। কোন অবস্থাতেই সমস্যার বিচি মাথায় নিয়ে চৌকির নিচে লুকিয়ে থাকা যাবে না। তাহলে সমস্যা বীজ থেকে চারা হবে। চারা থাকে গাছ হবে। মন খারাপ থেকে হতাশার জন্ম দিবে। সেই হতাশা ধীরে ধীরে ডিপ্রেশন এ কনভার্ট হবে। যত দেরি করবে, যত বেশি ঘোরপ্যাচঁ খেলবে ঝামেলার পাহাড় তত বেশি বাড়তে থাকবে। নেগেটিভ চিন্তার পরিধি তত বেশি বাড়তে শুরু করবে।

.এক সেমিস্টারে খারাপ করছো? টেনশন নাই। আজকে থেকে সিরিয়াসলি পড়ালেখা শুরু করে দাও। এক ইন্টারভিউতে অলমোস্ট গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিছে। নো, প্রবলেম। নেক্সট দশ দিন খেয়ে, না খেয়ে এমন লেভেলের প্রিপারেশন নিবে যে পরের ইন্টারভিউতে আগেরটার চাইতে ২০% হলেও ভালো হবে। ইংলিশে কথা বলতে গিয়ে দাঁত ভেঙ্গে গেছে। পরের একমাস, ইংলিশ প্রাকটিস করতে করতে এখন আটকানোই যাচ্ছে না। সো, লাইফে সমস্যা আসা, সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে– সমস্যাকে টিকিয়ে রাখা। সমস্যা হচ্ছে– সমস্যাকে বাড়তে দেয়া। তাই সমস্যা ছোট থাকতেই সমস্যার বিচি গেলে দাও। অল্প বয়সেই সমস্যা অক্কা পাবে।

By – jhankar mahbub

Author

Write A Comment