তোমরা যারা প্রেম করতেছো বা করছিলা তারা বুঝো যে প্রেম সবচেয়ে বেশি রোমান্টিক থাকে– প্রেমটা শুরু করার আগে অথবা ব্রেকাপ হয়ে যাওয়ার পরে। কারণ প্রেম উপচে পড়ে প্রোপোজ করার আগে। যখন কাউকে পটাইতে হবে, কনভিন্স করতে হবে। গিফট দিতে হবে, ওর বার্থডে, ওর হাঁচি ডে, চুলকানি ডে, ঘুমানোর ডে কবে। সব ঝাড়া মুখস্ত। একটাও মিস হয় না। সবকিছু ১০০% রুটিন মাফিক রেডি থাকে। আর একবার প্রেম শুরু হয়ে গেলে।

বল তোমার কোর্টে চলে আসলে। তখন শুরু হয়ে যায় ইগনোর করা। অফিসের ব্যস্ততা। তার মাঝখানে কিছুটা রুটিন মাফিক লায়াবিলিটি। জান, গুড মর্নিং!, বাবু খাইছো? এখন কয়টা বাজে? আকাশে, চাঁদ উঠছে? এমন কিছু বোরিং টাইপের কাজ। .তো, প্রেম ধরে রাখতে যেমন একটা ইমোশন থেকে ডিসিপ্লিন স্টাইলে কনভার্ট হয়ে প্রেম কন্টিনিউ করতে হয়। এই টেকনিকটা তুমি অন্য কিছুতেও এপ্লাই করতে পারো। অর্থাৎ তুমি যখন কোনো একটা কিছু করতে চাও সেক্ষেত্রে তুমিও ঐ প্রেমের মতো একটা ইমোশনাল স্ট্রাকচার তৈরি করে ফেলো।

কাজটা শুরু করার আগে, ওকে আমি এটা করতেছি খুবই এক্সাইটিং, এটা করলে আমার এই লেভেল হয়ে যাবে, এই স্কিলটা তৈরি হয়ে যাবে, এই টাইপের একটা ইমোশনাল জিনিস তৈরি করো। যখন কাজটা শুরু করে দিবা ধরো তুমি প্রোগ্রামিংই শিখো বা তুমি গ্রাফিক ডিজাইন শিখো বা তুমি ফটোশপ শিখো বা তুমি ইংলিশ কমিউনিকেশন করো যেটাই করো না কেন, তুমি একটা ইমোশন তৈরি করে ফেলো। .তারপর একটা রুটিন সেট করে ফেলো, ওকে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বা ঘুমে থেকে উঠে টানা এক ঘন্টা পড়ে ফেলব, এই এক ঘন্টা আমি হয়ত ফেসবুক চ্যাট করব না, এক ঘন্টা আমি হয়ত ইউটিউব চেক করব না বা সোশাল মিডিয়া চেক করব না, এই এক ঘন্টায় ডিসিপ্লিনের যে লায়াবিলিটি, প্রেমের মতো যে প্রতিদিন তোমাকে আপডেট দিতে হবে প্রেমের কী অবস্থা কেমন চলতেছে, আজকে কেমন ফিল করছো, আজকে রাতে কী খাইছো, আজকে তুমি ফেসবুক ইউজ করছো কিনা এই টাইপের তুমি নিজেকে করে ফেলো, ওকে আজকে আমি ফটোশপের ঐ টিউটোরিয়ালটা দেখছি কিনা।

বা আজকে আমি ইংলিশ কমিউনিকেশনের জন্য এই দশটা ট্রেনিং করছি কিনা। .তুমি যখন সেটা করে ফেলবা একটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে চলে আসবে, যখন তুমি সেটা শেষ করে ফেলবা তখন আবার তোমার একটা কমপ্লিটনেস তোমার মধ্যে চলে আসবে, হায়হায় আমি তো এটা শেষ করে ফেলছি, সাবাস, আমার জন্য কাজটা হয়ে গেছে। সো এই প্রেমের মতো ইমোশোনাল জিনিসটা তুমি যদি রেডি করতে পারো তাইলে এই বাবু বাবু করতে করতে মানে নিজেকে একটু গুছায় গুছায় রাখতে রাখতেই তোমার কাজটা কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়ে যাবে। .আর সেটা যদি না করো। তাহলে প্রেম এ চ্যাঁকা খাওয়ার পরে যে আফসোস করো–ও কেন ছেড়ে গেলো? আমার কি ভুল ছিল? আর কয়েকটা দিন ধৈর্য্য ধরলেইতো হতো।

এইসব আগেরা বাগেরা। সেই স্টাইলে অন্যরা যখন লাইফ সেটেল করে ফেলবে তখন তুমিও কান্নাকাটি করবে– আগে কেন সিরিয়াস হইনি। এখন কঠিন হয়ে গেছে। কেন আমি পারলাম না। তবে এই রকম যত কান্নাকাটিই করো না কেন– তোমার প্লেটের মুরগির রান আরেকজনের পেটে চলে গেলে সেটা আর ফেরত আসবে না। তাই কারো সাথে প্রেম করো আর নাই করো। নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্টের সাথে প্রেম করো। লাভ হবে। Love ও হবে।

Write A Comment