১. এই বছরের শুরুতে টার্গেট নিছিলাম এই বছরে প্রোগ্রামিং হিরো এপ এর ডাউনলোড হবে ১ মিলিয়ন। সেই হিসেবে কাজ শুরু করলাম। বছরের শুরুর দিকে ভালো গ্রোথ ছিল। ভাবলাম সেই গ্রোথ ধরে রাখবো। কয়েকজন মার্কেটিং মাফিয়াকে নিয়ে ভালো টিম ফর্ম করলাম। টিম নিয়ে সারা বছর চেষ্টা করে গেছি, তারপরেও বছর শেষে এপ এর ডাউনলোড ১ মিলিয়ন এর কাছেও যায়নি। আজকে পর্যন্ত এপ এর ডাউনলোড সংখ্যা ৬৯০,০০০। ২. কম্পিউটার ভিশন রিলেটেড একটা স্টার্টআপ আইডিয়া/প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতেছি সারা বছর ধরে। চার পাঁচ জন মিলে। মাঝখানে ইমেজ এক্সট্রাকশন এবং ইমেজ প্রসেসিংও অলমোষ্ট করেও ফেলছিলাম। কিন্তু সেই প্রজেক্টের থার্ড পার্টি AI এর accuracy ঠিক করা গেলো না। মডেল ট্রেইন করেও সুবিধা পাওয়া গেলো না। শেষমেশ প্রজেক্ট ৯০% ঘুরিয়ে এখন ম্যানুয়াল প্রসেস এ ম্যাচিং করে কোন রকমে MVP বানিয়ে মার্কেট এনালাইসিস এবং ডিমান্ড এনালাইসিস চালাতে হচ্ছে। .৩. প্রোগ্রামিং হিরো এপ এর মধ্যে পেমেন্ট api (প্রিমিয়াম মেম্বার হওয়ার প্রসেস) আপডেট করা হলো জুলাই মাসে। তবে এপ থেকে কেউ পেমেন্ট করলে সেটা যে রিকোগনাইজ করতে হয়। সেটা ডেভেলপার মিস করে গেছে। সে সেটা মিস করলেও, প্রতিদিন নতুন প্রিমিয়াম কত হলো। সেটা চেক করি আমি। তো, আমাদের যত পেমেন্ট/প্রিমিয়াম ইউজার পে করতো সেগুলা তিনদিন পরে যে অটো রিফান্ড হয়ে যাচ্ছিলো। তিন দিন আগের ডাটায় কি হইছে সেটা আর আমি চেক করিনি। লাষ্ট ৩০ দিনের টোটাল প্রিমিয়াম এর সংখ্যা বাড়তেছিল না। সেখানে কিছু হিন্টস ছিল। তবে আমি সেটা ইগনোর করেই যাচ্ছি। আর ঐদিক থেকে সব প্রিমিয়াম রিফান্ড হয়ে যাচ্ছে,পেমেন্ট করার তিনদিন পর। কয়েকজন ইউজার কমপ্লেইন করলেও আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। এই সমস্যাটা ধরে উঠতে এক মাস এর বেশি লেগে গেলো। ঠিক করে রিলিজ দিয়ে ফিক্স করতে প্রায় দুই মাস। তাই আমাদের এপ এর যা-ই ইনকাম হয়। একটু ভুলের জন্য দুই মাসের ইনকাম শূন্য হয়ে গেছে। .৪. রকমারি এর প্রতিষ্ঠাতা সোহাগ ভাইয়ের একটা ইন্টারভিউ নিছিলাম। আমার ইউটিউব চ্যানেল এর জন্য। ইন্টারভিউ নেয়ার সময় আমি বুঝিনি বা খেয়াল করিনি যে আমি বারবার সোহাগ ভাইকে কথার মাঝখানে আমি বাধা দিয়ে নিজে কথা বলা শুরু করে দিছিলাম। অনেক অনেক অনেক বার। জিনিসটা দৃষ্টিকটু, অশোভনীয় এবং অনুচিত কাজ। সেটা আমার এই বছরের একটা বড় ভুল বা ব্যর্থতা। .৫. আমার ন্যাশনাল কার্ডের স্ক্যান কপি দিয়ে আমি বাংলাদেশে কোম্পানি খোলার চেষ্টা করতেছিলাম। কিন্তু নতুন eTIN এবং অন্য কাজ হচ্ছিলো না। ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর নাম্বার ইনভ্যালিড বলে। এই দিকে কোম্পানি স্টার্ট করার দিন পার হয়ে যাচ্ছে। তাড়াহুড়া করে দেশে আসলাম। অনেক অনেক কাহিনী করে স্মার্ট আইডি কার্ড তুললাম। তারপর স্মার্ট আইডিকার্ড এর অফিসে আগের কার্ড দেয়ার অসময় আমার কাহিনী বলার পর তারা বললো– আপনার কার্ডের সাথে স্ট্যাপল করা কাগজের উপরে হাতে লেখা নাম্বারটাই আপনার স্মার্ট আইডি নাম্বার। এই নাম্বার আমার কার্ডের সাথে গত তিন বছর ধরে স্ট্যাপল করা আছে। অথচ আমি এই নাম্বার না দিয়ে, অনেক আগের স্ক্যান করা কপি দিয়ে বার বার ট্রাই করতেছিলাম। তাতে কাজ না হওয়ায় এতো এতো কাহিনী করে USA থেকে বাংলাদেশে আসলাম। কি যে একটা অবস্থা। .৬. এই বছর এপ্রিলের দিকে একটা চ্যালেঞ্জ নিছিলাম– টিকটক এ টানা ৩০ দিন (২ টা প্রোফাইল থেকে– আমার পার্সোনাল প্রোফাইল আর প্রোগ্রমিং হিরো প্রোফাইল থেকে) মোট ৬০ টা ভিডিও আপলোড দিবো। লোকজন দেখুক বা না দেখুক। আমি দিবো। সেটা ঠিকমতো ফিনিশ করতে পারছিলাম। সেই রঙে রঙে নভেম্বরের দিকে ঠিক করছিলাম quora বাংলা টানা ৩০ দিন মিনিমাম ৩০টা প্রশ্নের উত্তর দিবো। ডেইলি একটা একটা করে। মোটামুটি ৮-১০ দিনের মতো একটানা কন্টিনিউ করতে পারছিলাম। তারপর আর পারিনি। ওয়েব কোর্সের SCIC এবং আরো কিছু কাজের জন্য ডিসট্রাক্ট হয়ে গেছিলাম। কিন্তু কোরা-তে টানা ৩০ দিন ৩০টা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম না। .৭. এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। নতুন ওয়েব কোর্স চালু করেছি। কোর্স এ এনরোল যখন হয় তখন আমি বাংলাদেশ (কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, কোম্পানি একাউন্ট এইসব করতে) আর কোর্স এর রিলিজ ডেট এমনভাবে সেট করছিলাম যাতে আমি বাংলাদেশ থেকে USA তে চলে এসে আরামসে কোর্স রিলিজ দিবো। কিন্তু তারিখ হিসাব করতে গিয়ে উল্টা পাল্টা করে ফেলছি। রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পরেরদিন ক্লাস স্টার্ট এর ডেট দিয়ে দিছি। তারউপরে দেখা যায়, রিলিজ যখন হবে তখন আমি থাকবো ফ্লাইটে। টিম থাকবে বাংলাদেশে। তারপর জোড়াতালি হিসেবে– ফ্লাইটে ইন্টারনেট এর প্যাকেজ নিলাম। কিন্তু সেই প্যাকেজ দিয়ে ভিডিও কল তো দূরেই থাক। অডিও কলও করা যায় না। বিমানে বসে বসে আমি টাইপ করতেছি। টিম বাংলাদেশ। কি যে একটা অবস্থা গেছে। মাঝখানে সার্ভার ডাউনও খেয়ে গেছে। সবাই কোর্স এ একসেস পায়নি। কেউ ইমেইল ভুল দিছে। সেই লেভেলের নাকানি চুবানি খাওয়ার পর থেকে পরবর্তী ব্যাচগুলাতে এখন রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরে ফার্স্ট ক্লাস এর ডেট সেট করি। .৮. প্রায় ছয় মাস কাজ করে অনেক কাহিনী করে প্রোগ্রামিং হিরো এর আইফোন রিলিজ দেয়া হবে। তো, আমার টার্গেট ছিল প্রথম দিন ধরে ধরে মিনিমাম ২০০ জনকে দিয়ে ডাউনলোড করানো হবে। তাদের কাছ থেকে এপল এর এপ স্টোরে রিভিউ নিবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেক অনেক চেষ্টা করে। মানুষদেরকে ধরে ধরে ফোন করে। মেসেজ দিয়ে লিংক দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৫ জনকে দিয়ে প্রথম দিন ডাউনলোড করতে পারছিলাম। এমনকি প্রথম মাসের টার্গেট ডাউনলোড সংখ্যাও এচিভ করতে পারিনি। .৯. মানুষের কথায় ভাবলছিলাম ডাচ বাংলা ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং খুব ভালো। বিদেশ থেকে ব্যাংকিং করতে পারবো। এমনকি ডাচ বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজারেরও একই দাবি। আমি বিশ্বাস করে আরামসে বসে আছি। আসলে পুরাই ফাঁফা। আমি পুরাই ধরা খাইছিলাম। পরে অনেক কষ্টে লাস্ট মোমেন্টে ডাচ বাংলা ছেড়ে অন্য ব্যাংকে গিয়ে কোম্পানি একাউন্ট খুলে কোন রকমে পার পাইছিলাম। .১০.আমার একটি ভাঙ্গা গাড়ি আছে। পুরান, ২০০৫ সালের হোন্ডা। নভেম্বরের ৪ তারিখ দুপুর ১ টা এর দিকে ডলার স্টোরে গিয়ে (যা কিনেন ১ ডলার এমন দোকান) বের হতে গিয়ে দেখি গাড়ির ভিতরে চাবি রেখে গাড়ি লক করে দিছি। তো, এটা তেমন সমস্যা না। ইন্সুরেন্স কোম্পানিকে ফোন দিলাম। তারা এক ঘন্টার মধ্যে আসার কথা থাকলেও আসবে ২ ঘন্টা পরে। সেটাও সমস্যা না। আমরা দুই ঘন্টা কাটায় দিলাম। কিন্তু ২ ঘন্টার একদম লাস্ট মোমেন্ট এ আমাদের কাছাকাছি এসে ফোন দিছে। কিন্তু আমার ফোন তো অলটাইম সাইলেন্ট থাকে। রিংটোন অফ। যে হেল্প করতে আসতেছিলো, তার ফোন পিক না করায়, সে অন্য আরেকজনকে হেল্প করতে চলে গেছে। আমরা পড়ে গেছি বিপদে। এইদিকে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। শীতের কাপড় নাই। বাসায় ফেরত আসার উপায়ও নাই। সব চাবি গাড়ির ভিতরে। আমরা আবার হেল্প রিকুয়েস্ট করে। আরো ২ ঘন্টা অপেক্ষা করে। আরেক বাংলাদেশ ফ্যামিলিকে ডেকে এনে। শেষমেষ পাঁচ ঘন্টা পরে, সেই অবস্থা থেকে উদ্ধার পাইছিলাম। .১১. USA তে বেশিরভাগ এপার্টমেন্ট ভাড়া হয় এক বছরের কনট্যাক্ট এ। এবং এক বছর শেষ হওয়ার আগে সেই বাসা ছেড়ে দিতে গেলে মিনিমাম এক মাসের ভাড়া জরিবানা দিতে হয়। কোন কোন জায়গায় আরো বেশি। তো এই কনট্রাক্ট ভেঙ্গে বছর শুরুর একটু আগে আমরা টেক্সাসের ডালাস শহর ছেড়ে যাই ক্যালিফোর্নিয়ার San Jose শহরের এক Airbnbতে। সেখানে দেড়মাস থেকে একই শহরে আরেকজন ভাড়া করা বাসায় সাবলিজ ছিলাম তিন মাস। এরপর প্যান্ডেমিক এর শুরুর দিকে এক বছরের লিজ নিয়ে বাসা ভাড়া নিলাম ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের সান্তা ক্লারা শহরে। জুলাই এর দিকে মনে হলো প্যান্ডেমিক ছাড়বে না। এই বছর। যে ফান্ড রাইজ করতে আসলাম। সেটা সুবিধা হচ্ছে না। তাই এক বছরের কন্ট্রাক্ট ব্রেক করে জরিবানা দিয়ে চলে আসলাম টেক্সাস স্টেটের অস্টিন শহরে। আবারো এক বছরের কনট্রাক্ট। জুলাই থেকে শুরু হওয়া সেই কন্ট্রাক্ট আবার ভাঙতে হলো নভেম্বরের ২০ তারিখে।এক বছরে পাঁচবার বাসা পাল্টানোও এক ধরণের ব্যার্থতা। তাও আবার প্যান্ডেমিক এর মধ্যে। ১২. নভেম্বরের ২০ তারিখে এপার্টমেন্টের কনট্রাক্ট ভেঙে আগে বাসা ছেড়ে দেয়ার আগে দেখলাম এইবার বাসা পাল্টাতে গেলে দুই মাসের বাসা ভাড়া জরিবানা। তাই আমি হেব্বি সিরিয়াস। ফেইসবুকে অস্টিনের বিভিন্ন গরূপে পোস্ট দিলাম, ফেইসবুক মার্কেটপ্লেস এ বিজ্ঞাপন, apartment খোঁজার ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন দিয়ে লাভ করতে না পেরে। হোম ডিপো থেকে ৫০ ডলার দিয়ে সাইনবোর্ড কিনে এনে রাস্তার পাশে ছোট ছোট সাইনবোর্ড লাগিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছি। দেড় মাস খুঁজে একজনকে বেরও করে ফেলছি। খুশিতে লাফাইতে লাফাইতে তাকে নিয়ে যখন গেলাম এপার্টমেন্ট এর অফিস এ। তারা আমাকে দেখে বলে– বাসা থেকে যেদিন বের হয়ে যাবে বলে নোটিশ দিয়েছো তার মিনিমাম ৩ সপ্তাহ আগে তুমি নতুন ভাড়াটিয়া খুঁজে নিয়ে আসলে তোমার জরিবানা মাফ করা যেতো আর তুমি নিয়ে আসছো ২ সপ্তাহ আগে। কনট্রাক্ট ভালো করে পড়ো। আর নভেম্বরের ২০ তারিখের আগে জরিবানা দিয়ে যাইও।আমি তো পুরাই শেষ। এতো এতো কষ্ট করলাম কিসের জন্য, মাবুদ। .১৩. এই বছর নভেম্বরের ২০ তারিখ বাসা পাল্টাইছি এতো অগুছালো ভাবে। এ যে নতুন বাসায় গিয়ে দেখি কারেন্ট নাই। ইলেক্ট্রিসিটি নাই। গ্যাস নাই। যেদিন মুভ করছিলাম। সেদিন আবার শুক্রবার বিকাল ৩.০০ এর পরে। অর্থাৎ পরের দুই দিন বন্ধ। অনেক কান্নাকাটি করে গ্যাস এবং ইলেক্ট্রিসিটি এর লাইন অন করতে পারলেও, পানির লাইন অন যারা করবে তাদের আবার দুই দিন আগে এপ্লিকেশন করতে হয়। ব্যস, পরের শনিবার, রবিবার , সোমবার, মঙ্গলবার বাসায় পানি নাই। টয়লেটের ফ্ল্যাশ কাজ করে না। দোকান থেকে গ্যালন গ্যালন পানি কমোডে ঢাললে ফ্ল্যাশ হয় আবার হয় না। কি যে একটা অবস্থা। ১৪. প্রোগ্রামিং হিরো ওয়েব কোর্স এর ব্যাচ-৩ এর ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ব্যাচ-২ থেকে মিনিমাম ১০০ জন চাকরি/ইন্টার্ন এ জয়েন করুক এমন একটা টার্গেট সেট করছিলাম। তো এই পোস্ট লেখা পর্যন্ত চাকরি/ইন্টার্ন পেয়েছে ৯৭। আর আজকে রাত ১০.০০ এর সময় রিলিজ হয়ে যাবে ব্যাচ-৩। জাস্ট মাত্র ৩ জনের জন্য এইটা আমার ব্যর্থতার লিষ্টে জমা হয়েছে। ইশশিরে১৫. বিকাশ থেকে মার্চেন্ট একাউন্ট পাওয়ার চাইতে মঙ্গল গ্রহে দুইবার রাউন্ড ট্রিপ দেয়া ইজিয়ার মনে হয় আমার কাছে। কত কি কাহিনী করে। কত ভেরিফিকেশন রেডি করে। একটা মার্চেন্ট নাম্বার পাওয়া গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অটো ইন্টিগ্রেশন করতে পারিনি। অলমোস্ট তিনমাস গেছে এইটার পিছনে। সেটা শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়ে আসলেও এখনো পেমেন্ট API ইন্টিগ্রেট করা বাকি। ১৬. বহুব্রীহি একটা অনলাইন এ শেখার একটা প্লাটফর্ম। ওরা খুবই ভালো করতেছে। খুবই চমৎকার টিম। বছরের শুরুতে ওদের সাথে ইনফরমালা কথাও ছিল একসাথে কিছু একটা করার। সেই রকম কিছু করার প্লানও ছিল। আউটলাইনও তৈরি হয়ে গেছিলো। তারপরেও শেষ পর্যন্ত কেন জানি করা হয়নি। .১৭. এই বছরের একটু আগে san francisco এরিয়াতে গেলাম। টার্গেট তিনটা– অন্য স্টার্টআপগুলো কিভাবে চলে সেগুলা থেকে শিখা। ক্রেজি কোন স্টার্টআপ ফাউন্ডার খুঁজে বের করে তার সাথে পার্টনারশীপ গড়ে তোলা। এবং প্রোগ্রামিং হিরো এর জন্য সম্ভব হলে ফান্ড জোগাড় করা। কোন টাই করতে পারিনি। বরং দুই বছরের টার্গেট নিয়ে সেই এলাকায় গেলেও ছয়মাস পরে সেই এলাকা থাকে বিদায় নিছি। আরো টার্গেট ছিল– মিনিমাম ১০০ জন VC বা এঞ্জেল ইনভেস্টরের কাছ থেকে রিজেকশন খাওয়া। শেষ পর্যন্ত ১৪জনের কাছ থেকে রিজেকশন খাইছি। এরপর প্যান্ডেমিক এবং ওয়েব কোর্স অনেক কিছুর কারণে ফোকাস কিছুটা ডাইভার্ট হয়ে গেছে। .১৮. প্রোগ্রামিং হিরো কোর্সের ওয়েবসাইট এর হোস্টিং এর জন্য আমার খুব প্ৰিয় বাংলাদেশী একটা সার্ভিস নিছিলাম। তারা খুবই ভালো সাপোর্ট দিতো। কিন্তু ব্যাচ-২ রিলিজ দেয়ার পর কেন জানি সার্ভার ডাউন খেয়ে যায়। ওদের আইপিএস নষ্ট হয়, সার্ভার মাইগ্রেট করে, কনফিগারেশন চেইঞ্জ হয়। আমরা একজন ওয়ার্ডপ্রেস এক্সপার্ট দিয়ে কিছু চেইঞ্জ করতে দিলে, তিনি সার্ভার এর সবকিছু ভুলবশত ডিলিট করে দিয়ে। কাউকে না জানিয়ে ফোন অফ করে দেয়। এই রকম মিনিমাম ১৫-১৬টা ঝামেলা। যদিও শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ডিজিটাল ওশান এবং aws শিফট হওয়ার হইছি। তবে তার আরো আগে শিফট হওয়া উচিত ছিল। .১৯. Vimeo তে আমাদে প্রিমিয়াম ভিডিও সার্ভিস। তাদের সাথে যোগাযোগ করে ভিডিও হোস্টিং এবং ভিডিও বাফারিং রিলেটেড কোন ভালো সমাধানই করতে পারলাম না। ওদের ওদের সাথে যোগাযোগই একটা দুঃস্বপ্ন। তার উপরে বাংলাদেশের ISP থেকে মাঝে মধ্যে তাদের হোয়াইটলিষ্ট করে না। এবং এইসব ঝামেলা করতে করতে কোন রকমে চলতেছিলাম। তারপর ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ এসে তারা ভিডিও অটো প্রাইভেট করে দিছে। হিডেন একটা টার্মস এন্ড কন্ডিশন এর দোহাই দিয়ে। পুরাই ঝামেলায় পড়ে গেছিলাম। .২০. ২০২০ সালে বই বের করার একটা ভালো চেষ্টা করছি। অর্ধেকের মতো কন্টেন্ট ও জোগাড় করছি। আউটলাইন ড্রাফট করেছি। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে যেখানে বই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। সেটার ধারে কাছেও নাই। মনে হচ্ছে ২০২০ সালে নতুন বই পাবলিশও হলো না। আবার পরের বছরের জন্য অন্তত একটা বই লিখে ফেলা উচিত ছিল। সেটাও হচ্ছে না। ডাবল ব্যর্থতা। ২০ সাল ওভার। এইবার টার্গেট ২০২১ সালে মিনিমাম ২১ টা জিনিসে ব্যর্থ হওয়া। হ্যাপি নিউ ইয়ার

Write A Comment