আধা ডজন কারণ বলে দিচ্ছি। এগুলা তোমার মাথায় থাকলে ঝেড়ে ফেলো। কাজ হয়ে যাবে। ১. প্লানিং করার নামে– সময় অপচয় করা কোন স্টার্টআপ বা কোন কিছু করার আগে তুমি যদি এক মাসের বেশি সময় ধরে প্ল্যান করো– তুমি আসলে প্ল্যান করতেছো না বরং প্ল্যান করার দোহাই দিয়ে সময় নষ্ট করতেছো। তাই কোন বিজনেস আইডিয়া নিয়ে যদি এক মাসের বেশি সময় ধরে চিন্তা করো। তাহলে ধরেই নিবে– তুমি আসলে বিজনেস বা স্টার্টআপ নিয়ে সিরিয়াস না। শুধু শুধু চিন্তা করে তোমার নিজের সময় নষ্ট করছো। আর দুনিয়া পাল্টে দেয়ার বা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কমানোর শুকনা স্বপ্ন দেখছো। স্টার্টআপ করতে গেলে কোন প্ল্যানই ১০০% সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। বরং নামতে হলে একটা মোটামুটি আউটলাইন বানিয়ে নেমে পড়তে হবে। তারপর নামার পর সপ্তাহে সপ্তাহে তোমার বিজনেস এর সিচুয়েশন চেইঞ্জ হবে। তখন অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার মেন্টালিটি রাখতে হবে।

তাহলেই স্টার্টআপ একটা ভালো লেভেলে নিয়ে যেতে পারবে। যেকোন কিছুতেই তুমি যদি একদিনের বেশি প্ল্যান নিয়ে পড়ে থাকো। তুমি আসলে সময় অপচয় করছো। .২. ফল খাবো কিন্তু গাছ লাগাবো না– ধরণের মেন্টালিটি ঐ যে কথায় আছে– আমরা বেহেশত/স্বর্গে যেতে চাই। কিন্তু সেখানে যেতে হলে যে মরতে হবে সেই কাজটা করতে চাই না। যারা স্টার্টআপ শুরু করতে চায় তাদের বেশিরভাগই স্টার্টআপ দিতে চায়। কিন্তু সেটা করার জন্য যে প্রথম কয়েক বছর অমানুষের মতো পরিশ্রম করতে হবে। কোন উপার্জন ছাড়াই লেগে থাকতে হবে। ফ্যামিলি বা ফ্রেন্ডরা ভালো কামাই করে বিদেশ ভ্রমনে যাচ্ছে– সেই জিনিসে হার্ট রিএকশন দিয়েও কষ্টে নিজের হার্টকে চেপে ধরে লেগে থাকতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে স্টার্টআপ এ ঝাঁপ দেয়ার সত্যিকারের সাহস নাই।

সে জন্যই আমরা বেশিরভাগ যারা স্টার্টআপ করতে চাই। তাদেরকে বলে Wannapreneur অর্থাৎ এন্ট্রেপ্রেনার হওয়ার কথা বলবে। চিন্তা করবে কিন্তু শুরু করবে না। .৩. গা বাঁচিয়ে স্টার্টআপ হবে না। পানিতে না ভিজে যেমন গোসল হবে না। তেমনি কষ্ট করার মেন্টালিটি ছাড়া স্টার্টআপ হবে না। আবার তুমি দেদারসে চাকরি করবে আর রিমোট কন্ট্রোলে স্টার্টআপ চলবে। সেটাও বেশি দিন টিকবে না। তাহলে তোমার বিজনেসের ফল কাকে খেয়ে ফেলবে। আবার শীতের দিনে তোষকের নিচে লুকিয়ে থাকবে শুধু বসন্তের সুবাতাস এলে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে কয়েক লাখ প্রফিট খাবে সেটাও হবে না। স্টার্টআপ করতে হলে অমানবিক লেভেলের পরিশ্রম করতে হবে। অনেক ইভেন্ট স্যাক্রিফাইস করতে হবে। বারবার মানুষের কাছে যেতে হবে। মানুষ বারবার না করে দিতে তারপরেও তার পিছনে লেগে থাকতে হবে। একভাবে কাজ না হলে অন্যভাবে সেটাকে লাইনে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে।

দরকার হলে কিছুটা লজ্জাহীন হতে হবে। এই রকম মেন্টালিটিই বেশিরভাগ যারা স্টার্টআপ করতে চায় তাদের নাই। তাই তারা স্টার্টআপ শুরুই করতে পারতেছে না। .৪. সব সিচুয়েশন এডাপ্ট কোনো পারবে সেই কনফিডেন্সের অভাব একজন স্টার্টআপ উদ্যেক্তা একজন এডাপ্টেবল মিশন। সে শুরু করে বিজনেস আইডিয়া বা প্ল্যান নিয়ে। তারপর শুরু করতে না করতেই তাকে সেলস, মার্কেটিং এ জড়িয়ে পড়তে হয়। এটা মাত্র শুরু। কয়দিন পরে দেখা যায় একাউন্টিং করা লাগছে, ট্যাক্স রুলস, কাস্টমার সাপোর্ট, প্রোডাক্ট ডিজাইন, প্রমোশন, হায়ারিং, স্যালারি- ইনকাম ট্যাক্স, লিডারশিপ থেকে শুরু করে একটা কোম্পানির ছোট থেকে বড় সব ধরণের কাজ একজন উদ্যেক্তাকে করতে হয়। এই জিনিসগুলো একটার পর একটা ট্যাকল করার চিন্তা মাথায় আসলে যে ভয় পেয়ে যায়। সে তো বসেই থাকবে। আর যে সাহস করে সিচুয়েশন করে আলিঙ্গন করে নিবে।

সে ঠিকই এগুতে থাকবে। .৫. ইনভেস্টমেন্ট বা ফান্ডিং এর জন্য বসে থাকা স্টার্টআপ শুরু করতে বিশাল ইনভেস্টমেন্ট লাগে না। লাগে ঘাম আর লেগে থাকার ইচ্ছা। সেটা থাকলে একসময় না একসময় বিজনেসে ট্রাকশন তৈরি হবে। কাস্টমার আসতে শুরু করবে। তারপর সেই জিনিসটা ধরে রাখতে পারলে কাস্টমারই ইনভেস্ট করবে। সেটা আরো এগুতে থাকলে বাইরের ইনভেস্টরও আগ্রহী হয়ে উঠবে। তাই, ফান্ডিং আসলে হেলেদুলে স্টার্টআপ শুরু করবো এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে।তোমার পরিশ্রম আর মানুষিক দৃঢতাকে ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে নিয়ে শুরু করে দাও। বাকিসব সময়মতো ঠিকই ম্যানেজ হয়ে যাবে। .৬. জাস্ট চোখ বন্ধ করে শুরু করে না দেয়া চিন্তা ভাবনা করে করে কোনদিনও শেষ হবে না। বরং দুই বছর পরে আফসোস করবে। ইশ এই জিনিসটা আমিও চিন্তা করছিলাম। সো, স্টার্টআপ করার সিরিয়াস চিন্তা থাকলে জাস্ট ঝাঁপিয়ে পড়ো।

Write A Comment